বৃহস্পতিবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৯

সাপের দংশনে উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন ভেঙ্গে গেলো মোজাইদুলের

গতকাল রাত আনুমানিক ১ টার সময় সাপের দংশনে ঘুম ভেঙ্গে যায় মোজাইদুলের। তার বয়স ২০ বছর। বিয়ে সাদি করেনি।মোজাইদুলের বাড়ি- নওগাঁ জেলার পোরশা উপজেলায় ।একেবারে দরিদ্র বলতে যা বোঝায় মোজাদুল সেই শ্রেণির একজন সহায় সম্বলহীন। জন্মের পর পিতৃহীনভাবে জীবনের সাথে সংগ্রাম করে বড় হয়েছে।পরিবারে মা আর এক বড় ভাই ছাড়া কেউ নাই।দিনমজুরি করে, অটো চালিয়ে বাড়িভিটার জায়গাটুকু কিনেছিল মোজাইদুল।আবার সেই জায়গায় ইটের দুইটা ঘর তুলেছিল।এক ঘরে সে থাকবে আর অন্য ঘরে মা।সে ঘরে আর থাকা হলোনা মোজাইদুলের ।
দুচোখ জোড়া স্বপ্নে ভরপুর। শত কষ্ট আর প্রবঞ্চনার মধ্যেও সে পড়ালেখা চালিয়ে যেত।পরীক্ষার ফি যোগাড় করার জন্য মানুষের বাড়িতে কামলা দিয়েছে।এভাবে স্ট্রাগল করে সে SSC,HSC পাশ করে অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়তেছিল।আজ তার পরীক্ষা তাই গতকাল হাড়ভাঙা খাটুনির পরেও রাত বারোটা পর্যন্ত পড়ালেখা করে ঘুমিয়েছে আবার সকালে উঠে পড়বে ।
সংগ্রহঃ Firoz Rahman Evergreen Bangladesh. 

কিন্তু ঘন্টাখানেক পরই সাপের দংশনে ঘুম ভাঙ্গে মোজাইদুলের।পোছা মেরে সাপকে জীবন্ত ধরাও হয়।কারণ গ্রামের মানুষ বিশ্বাস করে সাপকে মারলে সাপকাটা রুগীও মারা যায়।যাই হক বাঁধন দেওয়া হলো।
এখন সাপের ইঞ্জেকশন নেওয়ার জন্য রাজশাহী যেতে হবে।আশে পাশে জেলা সদর অথবা উপজেলায় সাপের ইঞ্জেকশন নাই।যেহেতু রাজশাহী যেতে অনেক সময় লাগবে আর টাকা পয়সার বিষয়টি মূখ্য তাই তার পরিবার সিদ্ধান্ত নেয় কবিরাজ দেখাবে। কবিরাজ নাকি বিখ্যাত, অনেক রুগী ভাল করেছে।তার হাত ওঠে, শরীর থেকে বিষ ঝেড়ে মাটিতে ফেলে দেয়।যে রুগী বাঁচবেনা সে নাকি বুঝতে পারে তাই না বাঁচা রোগীর বাড়িতে আসেনা।মোজাইদুলের শরীরের বিষ ঝাড়ার জন্য সেই এলাকা খ্যাত কবিরাজকে মোবাইল করা হলো।দুই ঘন্টা পর কবিরাজ এসে বিষ ঝাড়লো।তারপর বাঁধন খুলে দিতে বললো।বাঁধন খুলে দেওয়ার পরেই রুগীর অস্থিরতা বেড়ে গেল। যখন অবস্থা বেগতিক কবিরাজ কৌশলে পগারপার। এরপর মাইক্রোবাসে করে বাড়ি থেকে ১৫ কি.মি. দূরে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।সেখানে কোন উপায়ন্তর না পেয়ে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।এরই মধ্যে রুগীর শ্বাসকষ্ট আর অস্থিরতা চরমে উঠতে থাকে।কথা বন্ধ হয়ে যায়।রুগী কাগজ কলমে তার শারিরিক অবস্থা বর্ণনা করে।মাইক্রোবাস রাজশাহী অভিমুখে দ্রুত ছুটতে থাকে। কিন্তু যা দেরি হবার আগেই হয়ে গেছে।দ্রুত ছুটে সময় রিকোভার করা গেল না।রাজশাহীর পথিমধ্যে মোজাইদুলের মৃত্যু হলো।কবিরাজ নামক ঘাতকের কাছে একটা তরতাজা প্রাণ অকালে ঝরে গেল।আর সেই সাথে আমাদের বাজে সিস্টেম এ জন্য আরেকবার দায়ী হয়ে গেল।সাপ থাকে গ্রামে আর এন্টিভেনোম ভ্যাক্সিন থাকে বিভাগীয় শহরে। এভাবে গ্রামের মানুষের অজ্ঞতা,কবিরাজ নামক ভণ্ডরা আর দেশের এরকম বাজে সিস্টেমের কাছে প্রতি বছর কত শত মোজাইদুল অকালে হার মানে তার প্রকৃত সংখ্যা সত্যিকার অর্থে সবার আড়ালেই থেকে যায়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

বঙ্গ বন্ধু'র কৃতিত্ব আমরা চাইলেই অস্বীকার বা অসম্মান করতে পারিনা

  হাসিনা'র স্বৈরাচারের জন্যে আমরা বঙ্গ বন্ধু'র কৃতিত্ব অস্বীকার বা অসম্মান করতে পারিনা । আজ ২০২৪-এ আমরা শিক্ষার্থী, অভিভাবক, তরুণ সম...